এই বইয়ে বহির্জাগতিক সভ্যতা বিষয়ক সাহিত্য; ডাউনলোড করুন
এবং আপনার নিজের জন্যই না হয় একবার পড়ে দেখুন!

রায়েলিয়া আন্দোলন

রায়েল: ইলোহীমের বার্তাবাহক

রায়েল: ইলোহীমের বার্তাবাহক২৭ বছর বয়সে ১৯৭৩ সালের ১৩ই ডিসেম্বরের সকালে , যখন রায়েল তার সফল রেসিং গাড়ির ম্য়াগাজিনকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন , নাটকীয়ভাবে রায়েলের সাথে সাখ্খাত হয় অন্য় গ্রহের একজন মানবের সাথে , ফ্রান্স এর কেন্দ্র ভলকানো পার্কে ৷ এই অপাথির্ব জগতের বাসিন্দা রায়েলকে আমাদের সূত্রপাত সম্পর্কে একটি নতুন বিশদ বর্ননা দেন এবং তথ্য় দেন কিভাবে আমরা আমাদের ভবিষ্য়তকে সুসংগঠিত করতে পারবো , যেভাবে বর্ণিত আছে 'ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন ' (Intelligent Design) বইটিতে ৷ সেই একই জায়গায় আরো ৬টি সাখ্খাত পর রায়েল রাজী হয় গ্রহন করতে তাকে দেয়া দায়িত্বটি- মানবজাতিকে এই বিপ্লবী বার্তাটি সম্পর্কে ঞ্গাত করানো এবং সেই সাথে তাদের (মানবজাতিকে) তৈরী করা তাদের সৃষ্টিকারী- ইলোহীমদের স্বাগত জানানোর জন্য় , কোনরুপ মরমীবাদ এবং ভীতি ছাড়া , কিন্তু সচেতন এবং কৃতঞ্গ মানবজাতি স্বরুপ ৷ কিছু মাস পরে রায়েলকে দেয়া এই বিশাল কার্যভার বিবেচনা করে দেখার পর এবং চূড়ান্তভাবে তার প্রিয় পেশাকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে রায়েল প্রায় বাধিয়ে ফেলেন পাকস্থলিতে আলসার , এবং নিজেকে তিনি সম্পূর্ণরুপে উতসর্গ করে দেন 'ইয়াহওয়েহ' (যে অপার্থিব জগতের বাসিন্দার সাথে রায়েল সাখ্খাত করেন) কর্তৃক প্রদত কার্যভার সম্পাদনে ৷ এই অপ্রত্য়াশিত সাখ্খাতের পর সে বছরের মধ্য়েই রায়েল এই ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য় সম্বলিত বই প্রকাশ করতে সমর্থ হন এবং উপস্থিত হন ফ্রান্স এর প্রধান দুটো টিভি এবং রেডিও অনুষ্ঠানে ঘোষনা করেন সেই সম্পর্কিত একটি জনসমাবেশের ৷ প্রথম এই জনসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় ফ্রান্স এর প্য়ারিসে ১৯৭৪ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর , যেখানে উপস্থিত হয়েছিল ২০০০ এরও বেশি মানুষ ৷ এর কিছু দিন পরেই রায়েল সাহচার্জ পান 'ম্য়াডেক' (MADECH) সংগঠনের যা রায়েলকে তার কাজে সাহায্য় করতে আগ্রহী হয় এবং পরবর্তীতে তা রায়েলিয় আন্দোলনের রুপ নেয় ৷ ১৯৭৪ সালের শেষের দিকে সংগঠনটিতে সদস্য়ের সংখ্য়া দাড়ায় ১৭০-এ ৷ বর্তমানে ৮৬টি দেশের ৬৫০০ এরও বেশি সদস্য় রয়েছে ৷

১৯৭৫ সালের ৭ই অক্টোবরে রায়েল ২য় বার অপ্রত্য়াশিত সাখ্খাত পান এবং এবার তাকে আরো তথ্য় দেয়া হয় যা তিনি তার দ্বিতীয় বইয়ে উল্লেখ করেন , (যা 'ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন' বইয়েরই একটি অংশ)৷ সেই সময় থেকেই রায়েল সমগ্র বিশ্বে সফর শুরু করেন , প্রত্য়েকটি মহাদেশে সেমিনার এবং আলোচনাসভার আয়োজন করেন এবং সেসকল মানুষকে একত্র করেন যারা তাদের সৃষ্টিকারীদের স্বাগত জানাতে ইচ্ছুক ৷ .

তিনি আরো কিছু বই রচনা করেন যেমন - "ইন্দ্রিয় ধ্য়ান" (Sensual Meditation)- যা তার শিখ্খার কেন্দ্রিয় ভাগ , "জেনিওক্রেসি " (Geniocracy)- যা যুক্তি প্রদর্শন করে আরো বেশি বিচখ্খন ব্য়বস্থাপনার পখ্খে , এবং "মানব ক্লোনিং এর পখ্খে হ্য়াঁ বলুন " ( Yes to Human Cloning)- যা ব্য়াখ্য়া করে চিরজীবি হওয়ার সম্ভাবনা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্য়তের যা একজন ব্য়াক্তি আশা করে , ধন্য়বাদ বিঞ্গান কে ৷

সারা বছর ধরে রায়েল জনগনের বহুসংখ্য়ক কর্মোদ্য়োগকে উদ্বুদ্ধ করেছেন যেমন - বিদ্য়ালয়ে কনডমের ব্য়াবহারের প্রবর্তন থেকে হস্তমৈথুনের প্রবর্ধন ; সংখ্য়ালঘিষ্ঠদের সমর্থনে বিশ্বব্য়াপী অভিযান চালানো , এই নীতিবাণীতে - " ব্য়াতিক্রমকে সহ্য় করাই যথেষ্ট নয় , ব্য়াতিক্রমকে ভালওবাসতে হবে "(to tolerate differences is not enough, one should love differences) ; 'ক্লোনেইড' প্রতিষ্ঠার মাধ্য়মে মানব ক্লোনিং এর পখ্খে সমর্থন করা; একমাত্র সম্ভাবনা হিসেবে 'জিএমও' (GMO- Geneically Modified Organism) প্রবর্তনের মাধ্য়মে পৃথিবীর সমগ্র মানবজাতির খাদ্য় নিশ্চত করা ;'ক্লিটোরেইড' প্রতিষ্ঠার মাধ্য়মে যেসকল মহিলাদের স্ত্রী অঙ্গের ভগাঙ্কুর কেটে বাদ দেয়া হয়েছিল তা মেরামত করা যাতে তারা পুনরায় ভোগসুখের অভিঞ্গতা লাভ করতে পারেন ; এবং সংযুক্ত রাষ্ট্রের আফ্রিকা বা যুক্ত আফ্রিকা গঠনের জন্য় আফ্রিকার সকল ঐতিহ্য়বাহী নেতাদের একত্র হওয়ার আহ্বান জানান ৷

রায়েল সারা বিশ্বের প্রায় সকল প্রধান টিভি চ্য়ানেল গুলোতে আমন্ত্রিত হয়েছেন -সিএনএন , ফক্স এবং বিবিসি নিউজ এছাড়াও আরো অনুষ্ঠান যেমন - ব্রেকফাস্ট উইথ ফ্রস্ট এবং এন্টারটেইনমেন্ট টুনাইট ইত্য়াদি ৷ বিঞ্গান সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনার উদ্দেশ্য়ে তিনি আমন্ত্রিত হয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন সভায় এবং অতিথি হয়েছিলেন পৃথিবীর অনেক নেতাদের ৷ ২০০০ সালে কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট 'ডেনিস স্য়াসু এনগুয়েসো' তাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম স্বাগত জানান ৷ অনেক শিল্পীরাই তাকে ফ্রান্স এর লেখক 'মাইকেল হুয়েলিবেক' এবং 'হিউ হেফনার' এর সমকখ্খ বলে মনে করেন ৷

পৃথিবীর সকল সভ্য়তাতেই একজন বার্তাবাহকের আবশ্য়কতা আছে , সেটা হতে পারে বৌদ্ধদের ভবিষ্য়ত বুদ্ধ , মানবজাতির ত্রানের উদ্দেশ্য়ে যাঁর আবির্ভাব ঘটবে বলে ইহুদিরা আশা করে- 'ভবিষ্য়ত যিশুখ্রিস্ট' , খ্রিস্টান ধর্ম বিশ্বাস মতে ঈশ্বরের ত্রয়ৈকত্বের তৃতীয় ব্য়াক্তিত্ব - 'পবিত্র আত্মা', এবং অন্য় আরো অনেক নাম যা বলা হয়েছে পৃথিবীব্য়াপী বহু গোষ্ঠীতে ৷ এসকল প্রত্য়াশিত বার্তাবাহকগন , পূর্বের বার্তাবাহকদের মতই সকলকে তুষ্ট করতে নয় বরং এটাই তুলে ধরতে আসবেন যে , আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের কাছ থেকে কি প্রত্য়াশা করেন ৷ এটাই রায়েল করে আসছেন ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে , অবিশ্রান্তভাবে এটা প্রতিঞ্গা করে যে , সে নিজের অধিকারে কিছুই রাখবেননা কেবল সব কিছুকে উতসর্গ করবেন তার সৃষ্টিকারীদের স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্য়ে সেই দূতাবাসটিতে যেটা তারা (ইলোহীমরা) তাকে তৈরী করতে বলেছে ২০৩৫ সালের পূর্বে ৷